FishBangla

ছোটো বেলা থেকেই মাছের প্রতি আমার খুব আগ্রহ - দেখতে এবং খেতে। সবাই বলে আমি আগের জন্মে নিশ্চিত বিড়াল ছিলাম। যাই হোক, বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে আমাদের থাকতে হত মগবাজার ওয়্যারলেস কলোনী তে। বাবার সাথে মাছ কিনতে প্রায়ই যাওয়া হত কাওরান বাজারে। কত রকমের মাছ ই না দেখা যেতো। সাধ্য সামর্থ্য মিলিয়ে ভালোই মাছ কেনা হতো। কিন্তু সমস্যা তৈরী হতো মাছ বাসায় আনার পর। প্রায় ই চক চকে মাছ কাটার পর দেখা যেত মাছটা পঁচা। সেই জন্য বাবাকে প্রায় ই মার মুখ ঝামটা খেতে হতো। মনে মনে বলতাম আমি বড় হলে কক্ষনো পচা মাছ কিনব না। যাই হোক বাবা মারা গেছেন আজ ৮ বছর। আজ আমি নিজেই দুই সন্তানের বাবা। আমার ছেলে এবং মেয়ে ও আমার মত মাছ দেখতে ও খেতে ভালবাসে। কিন্তু বেপারটা এক ধরনের অভিশাপ। এই ফরমালিন যুগে বাচ্চাদের মুখে মাছ তুলে দিতে হাত কাপে। যতই নামী দামী সুপার সপ থেকে মাছ কিনি না কেন, আসলেই কি এটা বিষ মুক্ত মাছ? যাই হোক, বাজারে মাঝে মাঝে জ্যান্ত রুই কাতলা পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো ও চাষের মাছ। রেগুলার নদীর মাছ আনা যায় কিভাবে? ভাবতে লাগলাম। এর মধ্যে কাজের সুবাদে বরিশাল যাওয়া হলো। খুঁজে বের করলাম নদীর মাছের আড়ৎ। মাছ দেখে মুখে পানি এসে গেলো। আগে পিছে চিন্তা না করে ৫০ হাজার টাকার মাছ কিনে ফেল্লাম। লঞ্চে করে বাসায় ও আনলাম। ছেলে মেয়ে মাছ দেখে খুব খুশি। কিন্তু বউ এর মুখ কালো। এত মাছ রাখব কোথায় আর ৪ জন মানুষে খেয়ে শেষ ই বা করব কবে? তো বন্ধু বান্ধব আত্বীয় এর বাসায় মাছ দেয়া হলো। মাছ খাবার পর সবাই ফোন দিতে শুরু করলো। সবাই জানতে চায় আবার কবে যাব মাছ আনতে? এবার সবাই টাকা দিয়ে মাছ আনাতে চায়। মাথায় একটা চিন্তা আসল, নেশা কে কি পেশা তে পরিনত করা যায়? এর পর শুরু হলো ফিশবাংলা এর যাত্রা। সবাই কে বিষ বিহীন তাজা মাছ খাওয়ানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস।